সুন্নাত পদ্ধতি হল দুই হাতে মুসাফা

 সুন্নাত পদ্ধতি হল দুই হাতে মুসাফা





প্রিয় পাঠক বৃন্দ ! বর্তমান মুসলিম নামে পরিচিত ব্যক্তিদের যদি লক্ষ্য করা যায় তাহলে এটা ভালোভাবে প্রকাশ পায় যে, মুসাফার পদ্ধতি মানুষের মধ্যে এক নয়। কিছু মানুষ এক হাতে মুসাফা করে আর কিছু মানুষ দুই হাতে মুসাফা করে । এবার প্রশ্ন হল আমরা কোন পন্থা ও পদ্ধতি অবলম্বন করবো ? এক হাতের পদ্ধতি না দুই হাতের পদ্ধতি ? । আসুন আমরা বর্তমান কে না দেখে অতীত কে লক্ষ্য করি যে, নাবী পাক আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম, সাহাবা কেরাম, তাবেয়ীন-এজাম ও তাবয়ে তাবেয়ীন রাদীআল্লাহু আনহুম কি পদ্ধতিতে মুসাফা করতেন। কারন নাবী পাক আলাইহিস সালাম ইরশাদ করেন,

اوصیکم باصحابی ثم الذی یلونھم الذی یلونھم ثم یفشو الکذب 
(رواہ الحاکم فی المستدرک وابن ماجہ والترمزی والفظ لہ و قال الترمزی هذا حدیث حسن صحیحٌ)
অর্থা:- আমি তোমাদেরকে অসিওত করছি (অনুসরন করার) আমার সাহাবীদের তারপর তাদের; যারা আমার সাহাবীর পরে আসবেন (অর্থাৎ তাবেয়ীগনের) অতঃপর তাদের; যারা তাবেয়ীগনের পরে আসবেন (অর্থাৎ তাবয়ে তাবেয়ীগনের)। অতঃপর মিথ্যার প্রকাশ ঘটবে।
(তিরমিজী শারীফ দ্বিতীয় খন্ড পৃষ্টা নং ৩৯ বাব লজুমিল জামাত, ইবনে মাজা শারীফ হাদীস নং ২৪৫৩, মুস্তাদরাক হদীস নং ৩৮৭)
এবং আল্লাহ্ তাআলা সূরা আহযাব আয়াত নং ২১ এ নিজ হাবীব আলাইহিস সালাম প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন,  

لقد کان لكم فی رسول اللّٰہ اسوۃ حسنۃ

অর্থা:- নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস শারীফ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মুসলমানদের উচিত নাবী পাক আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালামের সুন্নাত ও সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবয়ে তাবেয়ীনগনের অনুসরন করা। এবং মুসাফার পদ্ধতি প্রসঙ্গে যখন আমরা হাদীস ও আসর সমূহের পর্যালোচনা করি তখন এটা প্রমান হয় যে, নাবী পাক আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম, সাহাবা কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবয়ে তাবেয়ীনগনের সুন্নাত  পদ্ধতি ছিল দুই হাতে মুসাফা। ফলে আমীরুল মুমেনীন ফিল হাদিস হাযরাত ইমাম বোখারী রাহ্মাতুল্লাহ্ আলাইহে উক্ত মন্তব্যর উপর বহু দলীল উপস্থাপন করেছেন। তিনি তার বিশ্ব বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ বোখারী শারীফের মধ্যে মুসাফা ও দুই হাত ধরে মুসাফার বর্ণনায় উক্ত বিষয়ে তিনটি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। যেমন,  
قال ابن ممسعود علمنی النبیﷺ التشھد وکفی بین کفیہ
(رواہ البخاری فی الصحیح فی باب المصافحۃ والمسلم)

⁦অর্থা:- হাযরাত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রাদীআল্লাহু আনহু বলেন, নাবী পাক আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম ( মুসাফা করা কালিন ) আমাকে তাশাহ্হুদের শিক্ষা প্রদান করলেন এই অবস্থায় যে, আমার এক হাতের তালু তিনার দুই হাতের তালুর মাঝে ছিল।
( বোখারী শারীফ দ্বিতীয় খন্ড পৃষ্টা নং ৯২৬ মুসাফার বায়ান, মুসলিম শারীফ প্রথম খন্ড হাদীস নং ৯২৮ )

عن عبد اللّٰه بن سخبرۃ ابو معمرقال سمعت ابن مسعود بقول علمنی رسول اللّٰهﷺ وکفی ببن کفیہ التشھد
(راوہ البخاری فی الصحیح باب الا خذ بالیدین)

⁩অর্থা:- হাযরাত আব্দুল্লাহ্ বিন সাখবেরা আবু মাআমার রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন আমি হাযরাত ইবনে মাসউদকে বলতে শুনেছি ( মুসাফা করা কালিন ) আমাকে নবী পাক আলাইহিস সালাম তাশাহ্হুদের শিক্ষা দান করলেন, এই অবস্থায় যে, আমার এক হাতের তালু তিনার দুই হাতের তালুর মাঝখানে ছিল।
( বোখারী শারীফ দ্বিতীয় খন্ড পৃষ্টা নং ৯২৬ দুই হাত ধরে মুসাফার বর্ণনা )
⁦✒⁩প্রিয় পাঠক বৃন্দ ! উপরোক্ত হাদীসদ্বয় হতে পরিস্কার ভাবে প্রমান হয় যে, নাবী পাক আলাইহিস সালাম-এর সুন্নাত হল দুই হাতে মুসাফা করা এক হাতে নয়। হাযরাত আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ রাদীআল্লাহু আনহু নাবী পাক আলাইহিস সালামের সঙ্গে মুসাফা করার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইরশাদ করেন, মুসাফা করার অবস্থায় আমার হাতের তালু তিনার দুই হাতের তালুর মাঝে ছিল। আর যতক্ষন না কেউ দুই হাতে মুসাফা করেছে ততক্ষন তার প্রসঙ্গে ‘‘তিনার দুই হাতের তালুর মাঝে ছিল’’ বলা কখনও সম্ভব হবে না।

💮উক্ত হাদীস থেকে আরও প্রতিয়মান হয় যে, সাহাবায়ে কেরামগনের সুন্নাত হল দুই হাতে মুসাফা। কারন এটা হতে পারে না যে, নবী পাক আলাইহিস সালাম দুই হাতে মুসাফা করবেন আর আব্দুল্ল্াহ্ বিন মাসউদ এক হাতে। কারণ একজন সাহাবী কখনও নাবী পাক আলাইহিস সালাম-এর বিপক্ষে ও বিপরিত করতে পারে না। 

💮 কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, এখানে হাযরাত আব্দুল্ল্াহ্ বিন মাসউদ-এর সুধু একটাই হাত মাঝে ছিল বলা হয়েছে। উক্ত প্রশ্নের উত্তর হবে, দুই হাতে মুসাফা করার সময় একজন মানুসের একটাই হাত অপর জনের দুই হাতের মাঝে থাকে দুই হাত নয় নচেত উভয় ব্যাক্তির মুসাফা পদ্ধতি আলাদা আলাদা হয়ে যাবে। যা দুই হাতে মুসাফার সময় হয় না।
💮আবার কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে যে, উক্ত হাদীস দ্বারা মুসাফা করার প্রমান হয় না বরং হাত ধরে শিক্ষা প্রদান-এর প্রমান হয়। তার উত্তর হবে, প্রথমত মুসাফাতেও হাত ধরা হয় পাঁ না। দ্বিতীয়ত উক্ত হাদীস শারীফ দ্বারা যদি মুসাফার প্রমান না হত তাহলে, ইমাম বোখারী রাদীআল্লাহু আনহু যিনি আজকের মোলবী, নায়ক ও খলনায়ক অপেক্ষা লক্ষগুন বেশি জ্ঞানি ছিলেন তিনি কখনও উক্ত হাদীসকে মুসাফার বর্ণনায় লিপিবদ্ধ করতেন না।
⁦🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

Post a Comment

0 Comments