নাবী পাক আলাইহিস সালামের গায়েব সংক্রান্ত জ্ঞান সম্পর্কে ওহাবী ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা

নাবী পাক আলাইহিস সালামের গায়েব সংক্রান্ত জ্ঞান সম্পর্কে ওহাবী ও আহলে সুন্নাত ওয়াল  জামায়াতের আক্বীদা


নাবী পাক আলাইহিস সালামের গায়েব সংক্রান্ত জ্ঞান সম্পর্কে ওহাবীদের আক্বীদা 

ওহাবীদের আক্বীদা হল, হুজুর নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালাম গায়েব জানতেন না। নাবী পাক আলাইহিস সালাম-এর ব্যাপারে কেউ যদি বলে বা আক্বীদা রাখে যে তিনি গায়েব জানেন, তাহলে সে র্শিক করবে আর ইসলাম ধর্ম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। যা নিচের দেওয়া  উদ্ধৃতি দ্বারা পরিষ্কার ভাবে প্রমান করা হল। দেওবান্দিদের এক বিখ্যাত মোলভী রাশীদ আহমাদ গাংগুহী তার রচিত পুস্তক (ফাতওয়ায়ে রাশিদিয়া) এর দ্বিতীয় খন্ড,  পৃষ্ঠা নং ১০ -এ উল্লেখ করে -
یہ عقیدہ رکھنا کہ آپ کو(نبی ﷺ) علم غیب تھا صریح شرک
অনুবাদঃ- এ ধরনের আক্বীদা রাখা যে, ‘‘ হুজুর আলাইহিস সালাম গায়েবের জ্ঞান রাখতেন ’’ প্রকাশ্য র্শিক। 
ঐ গ্রন্থের ২য় খন্ড পৃষ্ঠা নং ৪৩ এর মধ্যে লেখা হয়েছে-
اثبات علم غیب غیر حق تعالی کو شرک صریح ہے
অনুবাদঃ- আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতিত অন্য করো জন্য গায়েবের জ্ঞান প্রমান করা, প্রকাশ্য র্শিক। 
* ভারতে ওহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রচারক মোলবী শাহ্ ইসমাইল দেহেলবীর ‘‘তাকবিয়াতুল ঈমান’’
-এর পৃষ্ঠা নং ৩০ -এ উল্লেখ আছে -
کسی انبیاء، اولیاء، یاامام یاشھید کی جناب میں ہرگز یہ عقیدہ نہ رکھے کہ وہ
غیب کی باتیں جانتے ھیں بلکہ حضرت پیغمبر کی جناب میں بھی یہ عقیدہ نہ رکھے
অনুবাদ ঃ- কোন নাবী, ওলী অথবা ইমাম ও শহিদ-এর সম্পর্কে এধরনের আক্বীদা যেন না রাখে যে, উনারা গায়েবের খবর রাখতেন, এমন কি হুজুরে পাক আলাইহিস সালামের ব্যাপারেও এধরনের আক্বীদা রাখা চলবে না। 
উপরের উদ্ধৃতি থেকে পরিষ্কার ভাবে জানা যায় যে, ওহাবীদের আক্বীদা ও মত হল যে, কোন ওলী বা নাবীর জন্য গায়েবের ইলম রাখার আক্বীদা ধারন করা প্রকাশ্য র্শিক। যে ব্যক্তি এ ধরনের আক্বীদা রাখবে, তাদের মতে সে র্শিক করবে আর মুশরিকে পরিনত হয়ে ইসলাম ধর্ম থেকে বাহির হয়ে যাবে।

নাবী পাক আলাইহিস সালামের গায়েব সংক্রান্ত জ্ঞান সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল  জামায়াতের আক্বীদা

আহলে সুন্নাত ওয়া জামাতের আক্বীদা হল যে, আল্লাহ তায়ালা নবীয়ে কারীম আলাইহিস সালামকে গায়েবের জ্ঞান প্রদান করেছেন যা কোরানুল মাজিদ ও বহু হাদিস শারীফ থেকে প্রমানিত। 
প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে যে, গায়েব কোন বস্তুুকে বলা হয় ? বা গায়েবের সংঞ্জা কি ? গায়েবের সংজ্ঞার ব্যাপারে বিখ্যাত মুফাস্সির হজরত আল্লামা ইমাম বাইযাবী আলাইহির রাহ্মা বাইযাবি শারীফে উল্লেখ করেছেন - 
اَلْمُرَادُ بِہِ اَلْخَفِیُّ اَلَّذِیْ لَا یُدْرِ کْہُ الْحِسُّ وَ لاَ تَقَتَضِیْہِ بَدَاھَۃُ الْعَقْلِ
অর্থাৎ ঃ- গায়েব হল যা কোনও ইন্দ্রিয় শক্তী ও সাধারন বুদ্ধি দ্বারা সুস্পষ্টরূপে উপলব্দি করা যায় না। 
* আর তাফসিরে কাবির প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা নং- ১৪০ মিশর থেকে ছাপানো গ্রন্থে গায়েবের সংঙ্গা লেখা হয়েছে-
اِنَّ الْغَیْبَ ھُوَ الَّذِیْ یَکُوْ نُ غًا ءِباً عَنِ الْحَا سَّۃِ
অর্থাৎ ‌ঃ- নিশ্চয় গায়েব হল, যা ইন্দ্রিয় শক্তী দ্বারা সুস্পষ্ট নয়। 
উল্লেখিত দুই সংজ্ঞা থেকে বোঝা যায়, যে বস্তুকে শারীরিক পঞ্চ ইন্দ্রিয় যথা- চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শুনে, নাক দিয়ে ঘ্রান নিয়ে, জিহ্বা দ্বারা স্বাদ নিয়ে ও ত্বকের স্পর্শ দ্বারা বা সাধারন বুদ্ধি দ্বারা উপলব্দি করা যায় না, তা হল গায়েব। সুতরাং জান্নাত, জাহান্নাম, হাশর নাশর, পুলসিরাত, হাউজে কাওসার, কবরে প্রশ্ন-উত্তর, হাসরের 
হিসাব কিতাব, হুর ও গেলেমান, আরশ ও কুরসী, সিদরাতুল মুনতাহা, লাওহকালাম, কবর ও জাহান্নামের আজাব, জান্নাতের বিষয় বস্তুু, মীযান,  ফারিস্তা, পূর্ববর্তী রাসুল ও আম্বিয়াগন এবং আগামী যুগের ঘটনা ইত্যাদি হল গায়েব। কারণ উল্লেখিত সমস্ত বস্তুকে আমরা কান দিয়ে শুনতে পারিনা, জিহ্বা দ্বারা স্বাদ নিতে পারি না, নাক দিয়ে ঘ্রান নিতে পারিনা, চোখ দিয়ে দেখতে পাইনা এবং শরীরের ত্বক দ্বারা স্পর্শ করতে পারিনা এবং কোরান ও হাদিস ব্যতিত নিজের বুদ্ধি দ্বারা উপলদ্ধি করতে সক্ষম হই না।
উক্ত বিষয় বস্তুগুলিকে ইন্দ্রিয় শক্তি দ্বারা সুস্পষ্টরূপে উপলদ্ধি করা যায় না, সে জন্যই মুসলমানগন ব্যতিত বিজ্ঞানীরা, দার্শনিকেরা ও তর্কবিদরা বহু ক্ষেত্রে উল্লেখিত বস্তুগুলিকে মানতে রাজি হয়না। 
উক্ত বস্তুুগুলিকে শুধু আমি নয় বরং কোরান শারিফেও গায়েব বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন সুরা বাকারা আয়াত নং ৩ -এ আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’য়ালা ইরশাদ করেন -
اَلَّذِ یْنَ یُوْ مِنُوْنَ بِالْغیْبِ
অনুবাদ ঃ- (তাঁরাই হেদায়াত প্রাপ্ত, দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াব) যাঁরা গায়েবের  উপর ঈমান নিয়ে আসেন। 
বিখ্যাত মুফাস্সির হজরত আল্লামা জালালুদ্দিন মাহাল্লী ‘আলাইহির রাহমা গায়েবের উপর ঈমান নিয়ে আসার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিজের তাফসির ‘‘জালালাইন’’ নামক গ্রন্থে উক্ত আয়াতের তাফসিরে বলেন - 
اَلدَّیْنُ یُوْ مِنُو نَ بِالْغَیْبِ بِمَا غَابَ عَنْھُم مِنَ الْبَعْثِ وَالْجَنَّۃِ وَالنَّارِ
অনুবাদ ঃ-  কোরান হেদায়াতের পথ প্রদর্শক তাদের জন্য যারা গায়েবের প্রতি ইমান নিয়ে আসেন অর্থাৎ মরনের পর দ্বিতীয় 
জীবন, জান্নাত ও জাহান্নাম- এর উপর ঈমান নিয়ে আসেন। 
উল্লেখিত তাফসির থেকে আমরা জানতে পারলাম জান্নাত, জাহান্নাম ও মরনের পর পুনরায় জীবিত হওয়া সবকিছুই হল গায়েব।
আসুন, পূর্ব যুগের সকল আম্বিয়া ও রসুলগনের সমস্ত ঘটনাগুলিকেও কোরান পাকে গায়েব বলে ঘোষনা করা হয়েছে কিনা ?
প্রথম দলিল ঃ- সুরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৪৪ -এর মধ্যে আল্লাহ্ তাবারক ওয়া তা’য়ালা ইরশাদ করেন -
ذٰلِکَ مِنْ اَنْبَاءِ الْغَیْبِ نُوْحِیْہِ اِلَیْکَ وَمَا کُنْتَ لَدَیْھِمْ اِذْیَلْقُوْنَ اَقْلَا مَھُمْ اَیُّھُمْ یَکْفُلُ مَرْیَمَ وَمَا کُنْتَ لَدَ یْھِمْ اِذْ یَخْتَصِمُوْنَ
অনুবাদ ঃ- ঐ সব হল গায়েবের খবর (সংবাদ) যা  আপনার প্রতি প্রেরন করা হচ্ছে আর আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা নিজের নিজের কলমকে পানিতে প্রবেশ করছিল যে , হজরত মারিয়াম -এর কেফালত ( রক্ষনা বেক্ষন) কে করবে। আর আপনি তখনও ছিলেন না যখন তারা ঝগড়া করছিল। 
*উক্ত আয়াত থেকে পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় যে, আল্লাহ্ তায়ালা হাজরাত মারিয়ম -এর ঘটনাকে গায়েব বলেছেন।
দ্বিতীয় দলিল ঃ- আল্লাহ তা’য়ালা সুরা ইউসুফ, আয়াত নং ১০২ -এর মধ্যে ইরশাদ করেন -
ذٰلِکَ مَنْ اَنْبَاءِ الْغَیْبِ نُحِیْہِ اِلَیْکَ وَمَا کُنْتَ لَدَیْھِمْ اِذْ جَمَعُوْا اَمْرَ  ھُمْ یَمکُرُوْنَ
অনুবাদ ঃ- এ কিছু অদৃশ্যের (গায়েবের) সংবাদ, যা আপনার প্রতি ওহী করছি এবং আপনি তাদের নিকট ছিলেন না, যখন তারা নিজেদের কাজের সিদ্ধান্ত পাকাপাকি করছিলো এবং তারা চক্রান্ত করছিলো।
*অর্থাৎঃ আল্লাহ তা’য়ালা হুজুর আলাইহিস সালামকে বলেন হে মেহবুব ! ইউসুফ আলাইহিস সালাম- এর ভাইদের ঘটনা আপনার প্রতি বিস্তারিত ভাবে বর্ননা করা হল গায়েবের সংবাদ।
তৃতীয় দলিল ঃ- সুরা হুদ, আয়াত নং ৪৯ -এর মধ্যে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জাত ইরশাদ করেন -
تَلْکَ مِنْ اَنْبَاءِ الْغَیْبِ نُحِیْھاَ اِلَیْکَ وَ مَا کُنْتَ تَعْلَمُھَا انْتَ وَ لَا قَوْمُکَ مِنْ قَبْلِ ھٰذَا فَاصْبِرْ اَنَّ الْعَاقِبَۃَ لِلْمُتَّقِیْنَ
অনুবাদ ঃ- এ সমস্ত অদৃশ্যের (গায়েবের) সংবাদ আমি আপনারই প্রতি ওহী করছি। সে গুলো না আপনি জানতেন, না আপনার সম্প্রদায় পূর্বে জানত। সুতরাং ধৈর্য ধারন করুণ, নিঃসন্দেহে  শুভ পরিনাম পরহেজগারদের জন্যই।
এই তিনটি আয়াত থেকে পরিষ্কার ভাবে প্রমানিত হয় যে, আল্লাহ্ তা’য়ালা প্রথম আয়াতে হজরত মারিয়ম রাদি¦যাল্লাহু আনহা , দ্বিতীয় আয়াতে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম ও তাঁর ভাইদের এবং তৃতীয় আয়াতে হজরত নুহ আলাইহিস সালাম ও তাঁর সম্প্রদায়-এর ঘটনাকে গায়েবের সংবাদ বলে ঘোষনা করেছেন।
সুতরাং সুরা বাক্বারাহ আয়াত নং ৩, সুরা আলে-ইমরান আয়াত নং ৪৪, সুরা ইউসুফ আয়াত নং ১০২ এবং সুরা হুদ আয়াত নং ৪৯ থেকে আমাদের সামনে পরিষ্কারভাবে প্রমান হয় যে, জান্নাত-জাহান্নাম, হাসর-নাসর, হিসাব-কিতাব, আখেরাতের সম্পূর্ন ঘটনাবলী এবং পূর্বের আম্বিয়া ও রাসুলগন আলাইহিমুস সালাম এবং আওলিয়া রাহমাতুল্লাহ আলাইহিম আজমাইন ইত্যাদির সংবাদ গুলিকেও গায়েবের সংবাদ বলে জানতে ও মানতে হবে। আর উল্লেখিত গায়েবগুলির সম্পর্কে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছি শুধু মাত্র  নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালামের জবান মুবারাক দ্বারা, সেটা কোরানের দ্বারাই হোক অথবা হাদিসে রাসুলের রূপে।
সুতরাং উপরের আলোচনার দ্বারা আমরা জ্ঞাত হলাম যে, উল্লেখিত বস্তুগুলি হল গায়েব। আর উক্ত সমস্ত বস্তুগুলির সংবাদ আমাদের প্রদান করেছেন নাবীয়ে কারিম আলাইহিস সালাম। অতএব আমরা এ সত্য স্বিকার করতে  বাধ্য যে, নাবীয়ে কারিম আলাইহিস সালাম হলেন গায়েবের সংবাদ প্রদানকারী ও গায়েবের জ্ঞানের অধিকারী।
আর এই কারনে আল্লাহ্ রাব্বুল ইজ্জাত নিজের মাহ্বুব আলাইহিস সালামের শানে সুরা তাক্ববীর আয়াত নং ২৪ -এ ইরশাদ করেছেন-
وَمَاهَو عَلَى الْغىْبِ بِضَنِيْن
অনুবাদ ঃ- আর তিনি (হজরত নাবীয়ে কারিম আলাইহিস সালাম) গায়েবের সংবাদ দিতে কৃপণতা করেন না। 
* অর্থাৎ নাবীয়ে কারিম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ্ তা’য়ালার তরফ থেকে গায়েবের সংবাদ প্রদান করা হয়। যা নাবীয়ে কারিম আলাইহিস সালাম প্রয়োজন মত নিজের উম্মাতকে শিক্ষা দিতে কোন রকম দ্বিধা করেন না, বরং উম্মাতকে সংবাদ প্রদান করেন। কিছু ওহাবী মোলভী বলতে পারে যে, উক্ত আয়াত নাবীয়ে কারিম আলাইহিস সালাম -এর জন্য নয়, বরং আল্লাহ্ তা’য়ালার জন্য। কিন্তু তাদের এই ব্যাখ্যা ভুল ও ভিত্তিহীন। কারন কোরান শারীফের কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা নিজের তরফ থেকে করা জায়েয নয়, হারাম এবং নিজেকে জাহান্নামী বানিয়ে নেওয়া। যেমন হজরত নাবীয়ে কারিম আলাইহিস সালাম ইরশাদ করেন -
مَنْ قَالَ فِی الْقُرْآنِ بِراۂِ فَلَیَتَبَوَّ أ مَقْعدَہُ مِنَالنَّارِ وَفِی رِوَایۃٍ مَنْ قَالَ فِی الْقُرْآنِ بِغَیْرِ عِلْمٍ فَلْیِتَبَوَّأ مَقْعَدَہُ مِنَ النَّارِ
অর্থাৎ ঃ- যে ব্যক্তি কোরান শারিফের ব্যাখ্যা নিজের ইচ্ছামত করল সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নিল। আর অন্য এক রাওয়ায়েতে আছে, যে ব্যক্তি কোরান শারিফের ব্যাখ্যা না জেনে করবে, সে নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নিবে।
সুতরাং কোরান শারীফের কোনও আয়াতের ব্যাখ্যা করতে হলে আমাদেরকে তাফসিরের অনুস্বরণ করতে হবে। তাফসির শাস্ত্রের বিখ্যাত মোফাস্সির গন কোরান শরীফের আয়াত গুলির যা ব্যাখ্যা করেছেন, তাই আমাদেরকে করতে হবে। আর উক্ত আয়াতের তাফসীর মোফাস্সিরগন যা করেছেন, তা থেকে বোঝা যায় যে, এই আয়াতটি আল্লাহ্ তা’য়ালার শানে বলা হয় নি, বরং নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালামের শানে বলা হয়েছে।
যেমন তাফসির শাস্ত্রের বিখ্যাত কিতাব ‘‘তাফসিরে মোয়ালিমুত তানযিল’’ -এর মধ্যে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। -
یَقُو لُ اِنَّہُ یَاتِیہِ عَلْمُ الْغَیْبِ فَلَا یَبْخُلُ بِہِ عَلَیْکُمْ بَلْ یُعَلَّمُکُمْ وَ یُخْبِرُ کُمْ وَلاَ یَکْتُمُہُ 
অনুবাদ ঃ- আল্লাহ্ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, নিশ্চয় নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালাম এর কাছে গায়েবের জ্ঞান প্রদত্ত হয়। তখন তিনি তোমাদের কাছে প্রদত্ত জ্ঞানকে পৌছাতে কোনো রকম কৃপনতা করেন না বরং তোমাদেরকে সেই জ্ঞানের শিক্ষা ও সংবাদ প্রদান করেন এবং গোপন করেন না।
আরও তাফসিরে ‘‘খাজিন’’ -এর মধ্যে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়েছে,-
یَقُوْ لُ اِنَّہُ یَاتِیِْہِ عِلْمُ الغَیْبِ فَلَا۔ یَبْخَلُ بِہِ عَلَیْکُمْ بَلْ یُخْبِرُ کُمْ بِہِ
অনুবাদ ঃ- আল্লাহ্ তা’য়ালা বলেন, নিশ্চয় নাবীয়ে পাক আলাইহিস সালাম -এর নিকট গায়েবের জ্ঞান প্রদত্ত হয়। অতএব নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালাম সেই জ্ঞানে বোখিলতা (কৃপনতা) না করে তোমাদেরকে তার শিক্ষা ও সংবাদ প্রদান করেন।
আর উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা তাফসিরে ‘বাগবী’ -এর মধ্যেও ঠিক উপরের মতই করা হয়েছে। 
সুতরাং, উল্লেখিত কোরানের আয়াত ও তাফসির সমুহ থেকে পরিষ্কার ভাবে প্রমানিত হল যে, হুজুর আক্বায়ে নামদার আলাইহিস সালামকে আল্লাহ্ তাবারক ওয়া তা’য়ালা  গায়েবের জ্ঞান প্রদান করেছেন। এবং নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালাম ইলমে গায়েব জানতেন। নচেৎ নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালাম -এর গায়েবের সংবাদ প্রদান করায় কৃপনতা না হওয়ার কোন মানেই হয় না।
এছাড়াও কোরানের অসংখ্য আয়াতে ও হাদিস শারীফ থেকে বহু  নিখুঁত প্রমান পাওয়া যায় যে, হুজুর  আলাইহিস সালাম গায়েবের জ্ঞান রাখতেন। যেমন - আল্লাহ্ তা’য়ালা সুরা ‘নিসা’ আয়াত নং ১১৩ -এর মধ্যে ইরশাদ করেন- 
وَعَلَّمَکَ مَالَمْ تَکُنْ تَعْلَمْ وَ کَانَ فَضْلُ اللہِ عَلَیْکَ عَظِیْمَا
অনুবাদ ঃ-  আল্লাহ তা’য়ালা আপনাকে শিখিয়ে দিয়েছেন, যা কিছু আপনি জানতেন না এবং আপনার প্রতি ইহা একটি মহান অনুগ্রহ।
তাফসির ‘জালালাইন’ -এ উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়েছে-
وَعَلّمَکَ مَالَم تَکُنْ تَعْلَمْ اَی مِنَ الْاَ حْکَامِ وَالْغَیْبِ
অর্থাৎ ঃ- আল্লাহ তা’য়ালা আপনাকে শরিয়াতের আহকাম ও গায়েবের মধ্যে যা কিছু জানতেন না, তার শিক্ষা দিয়ে দিয়েছেন। 
* তাফসিরে ‘সাবী আলাল জালালাইন’ -এর মধ্যে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, -
وَعَلّمَکَ مَالَم تَکُنْ تَعْلَمْ اَیْ عِلْمُ الْغَیْبِ
অর্থাৎ ঃ- আর আল্লাহ্ তা’য়ালা আপনাকে গায়েবের মধ্যে যা জানতেন না, তা শিখিয়ে দিয়েছেন।
* আর তাফসিরে ‘রুহুল’ বায়ানের মধ্যে বলা হয়েছে-
অর্থাৎ নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালামকে গায়েব প্রসঙ্গে যা জানতেন না, তা তাঁকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
* তাফসিরে ‘খাযিন’ -এর মধ্যে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়েছে-
مِنْ اَحْکَامِ الشَّرِیْعَۃِ وَاَمْرِ الدَّیْن وَمِنْ خَفَیاَتِ الُا مُوْرِ وَضَمَاءِرِ الْقُلُوْبِ وَمِنْ اَحْوَالِ الْمُنَافِقِیْنَ وَ کَیْدِ ھِمْ
অর্থাৎ ঃ-  আল্লাহ্ তা’য়ালা নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালামকে শিক্ষা প্রদান করেছেন শরিয়াতের সমস্ত আহকাম এবং ধর্মের প্রয়োজনীয় সমস্ত বিষয়গুলি তথা তাঁকে জ্ঞান দান করেছেন লুকায়িত গুপ্ত ভেদ সমুহ ও যা কিছু মানুষের অন্তরের এবং মোনাফিকদের অবস্থা ও তাদের ধোকাবাজি প্রসঙ্গে।
* সুরা ‘‘জ্বিন’’ -এর আয়াত নং ২৬/২৭ -এ আল্লাহ্ তা’য়ালা ইরশাদ করেন-
عَالِمُ الْغَیْبِ فَلَا یُظْھِرُ عَلَی غَیْبِہِ اَحَدً اِلاّ مَنِ ارْ تضَیٰ مِنْ رَسُوْلٍ
অনুবাদ ঃ- গায়েব জাননে ওয়ালা (আল্লাহ তা’য়ালা) তিনি তাঁর গায়েব মনোনিত রাসুল ব্যতিত কারো প্রতি প্রকাশ করেন না। 
*অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’য়ালা নিজের পছন্দনীয় রাসুল ব্যতিত অন্য কাউকেই গায়েবের জ্ঞান প্রদান করেন না। আর হুজুর আলাইহিস সালাম হলেন আল্লাহ্ তা’য়ালার সব থেকে বেশী পছন্দীয় রাসুল। কারন আল্লাহ্ তা’য়ালা হুজুর আলাইহিস সালাম -এর জন্যই সারা পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। যেমন আল্লাহ্ তা’য়ালা হাদীসে কুদসীতে ইরশাদ করেন -
لَوْلَا مُحَِمَّدٌ مَا خَلَقْتُ آدَمَ وَلَوْلَولاَ مُحَمَّدٌ مَا خَلَقْتُ الْجَنَّۃَ وَلاَ النَّار
অনুবাদ ঃ- যদি মোহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহ আলাই ওয়া সাল্লাম) না হতেন তাহলে আমি আদমকে সৃষ্টি করতাম না। যদি মোহাম্মাদ না হতেন তাহলে
জান্নাত ও জাহান্নামকেও আমি সৃষ্টি করতাম না। 
আর যখন হুজুর আলাইহিস সালামের সব থেকে বেশী পছন্দনীয় হওয়া প্রমানিত হল তখন রাসুলে কারীম আলাইহিস সালাম-এর প্রতি গায়েবের জ্ঞান প্রদান করা ও নাবীয়ে কারীম আলাইহিস সালামের জ্ঞানী হওয়াও প্রমানিত হল, নচেৎ উক্ত আয়াতগুলি ভুল প্রমানিত হবে। আল্লাহ্ তা’য়ালা আমাদের সকলকে সংকলিত আয়াতগুলি বোঝার শক্তি প্রদান করুক। আমীন বে জাহে সাইয়েদিল মুরসালীন আলাইহিস সালাত ওয়াস সালাম।

লেখক‍ঃ- মুফতী আমজাদ হুসাইন সিমনানী 

Post a Comment

0 Comments