নবী কারীম আলাইহিস সালাম 20 রাকাত তারাবীহ পড়েছেন ও পড়িয়েছেন।

নবী কারীম আলাইহিস সালাম 20 রাকাত তারাবীহ পড়েছেন ও পড়িয়েছেন।
নাবী পাক আলাহিস স্বালাত ওয়াস সালাম নিজের জাহিরী জীবনে সাহাবাদের তিন বা চার দিন জামাআত সহকারে তারাবীহর নামাজ পড়িয়েছেন।তার পর জামাতের সহিত তারাবীহ্ আদায় করা ছেড়ে দিয়েছিলেন। যাহাতে উম্মতের প্রতি তারাবীহের নামাজ ফরজ না হয়ে যায়। কিন্তু  তিনি যত দিন তারাবীহের নামাজ জামাত সহকারে পড়িয়েছেন বা একাকি পড়েছেন বিশ রাকাতই আদায় করেছেন আট রাকাত না। যার দলীল সমূহ নিম্নে প্রদত্ত হল।
عن عائشۃ ام المؤ منین رضی اللّٰہ عنھا ان رسول اللّٰہ ﷺ صلی ذات لیلۃِ فی المسجد فصلی بصلاتہ ناس ثم صلی من القابلۃ فکثر الناس ثم اجتمعوا من اللیلۃ الثالثۃ او الرابعۃ فلم یخرج الیھم رسول اللّٰہ ﷺ فلما اصبح قال قد رأیت الذی صنعتم ولم یمنعنی من الخروج الیکم  الا انی خشیت ان تفرض علیکم وذلک فی رمضان
(رواہ البخاری واللفظ لہ و المسلم وابو داؤد و النسای)
অর্থাৎ :- হাযরাত আয়েশা সিদ্দিকা রাদীআল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্নিত। নিশ্চয়ই নাবীয়ে আকরাম আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম একদা রাতে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করলেন এবং কিছু সাহাবিও তাঁর সহিত নামাজ আদায় করলেন। দ্বিতীয় রাতে নাবী পাক আলাইহিস সালাম অনুরূপ নামাজ আদায় করলেন অতএব সাহাবীগনের সংখ্যা তিনার সহিত বৃদ্ধি পেল। আবার তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাতে সেই নামাজের জন্য সাহাবাগন একত্রিত হলেন। কিন্তু  নাবী পাক আলাইহিস সালাম বের হলেন না। অতঃপর সকাল  হলে তিনি সাহাবাগনকে ইরশাদ করলেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কর্মকে ( একত্রিত হওয়াকে ) লক্ষ করেছি। এবং আমার তোমাদের কাছে না আসার একমাত্র কারণ হল, আমার সন্দেহ হয়েছিল (এভাবে জামাতের সহিত তারাবীহ্ পড়তে থাকলে ) তোমাদের প্রতি তা ফরজ হয়ে যাবে। ( যা পরক্ষনে তোমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে ) বর্ণনা কারী বলেন উক্ত ঘটনাটি রমজান মাসে প্রকাশ পায়।
( বোখারী শরীফ প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা নং ১৫৩,হাদীস নং ১১২৯,, তাহরীদিন নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলা স্বোলাতিল লাইল অধ্যায়,, মুসলিম শরীফ হাদীস নং ১৮১৯, তারগীব ফি কিয়ামে রামজান অধ্যায়,,
আবু দাউদ শরীফ হাদীস নং ১৩৭৩, ফি কিয়ামে শাহরে রামজান অধ্যায়,,
নিসাঈ শরীফ প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা নং ১৮২,,)
عن عروۃان عائشۃ اخبر تہ ان رسول اللّٰہ ﷺ خرج لیلۃ من جَوْفِ اللیل فصلی فی المسجد وصلی رجال بصلاتہ فا صبح الناس فتحد ثوا فا جتمع اکثر منھم فصلی فصلوا معہ فا صبح الناس فتحد ثوا فکثر اھل المسجد من اللیلۃ الثالثۃ فخرج رسول اللّٰہ ﷺ فصلی فصلوابصلا فلما کان اللیلۃ الرابعۃ عجز المسجد عن اھلہ حتی خرج لصلوۃ الصبح فلما قضی الفجر اقبل علی الناس فتشھد ثم قال اما بعد فانہ لم یخف علیّ مکانکم و لکنی خشیت ان تفرض علیکم فتعجزوا عنھا فتوفی رسول اللّٰہ ﷺ و الامرعلی ذلک 
(رواہ البخاری و اللفظ لہ والمسلم)
অর্থাৎ :- হাযরাত উরওয়া রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্নিত। নিশ্চয়ই হাযরাত আয়েশা রাদীআল্লাহু আনহা  সংবাদ প্রদান করেছেন যে, নাবী পাক আলাহিস সালাত ওয়াস সালাম একদা গভীর রাতে মসজীদে গিয়ে (তারাবীহ্) নামাজ আদায় করলেন। এবং তার সঙ্গে কিছু সাহাবাগনও নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর সকাল হলে সাহাবাগন (রাতের নামাজ প্রসঙ্গে ) আলোচনা করেন। ফলে দ্বিতীয় রাতে সাহাবাগনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এবং  তিনি সাহাবাগনকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন।  অতঃপর সকাল হলে সাহাবাগন ( আবারও ) সেই নামাজ প্রসঙ্গে আলোচনা করেন ফলে মসজিদে তৃতীয় রাতে নামাজীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। অতএব নাবী পাক আলাহিস  সালাম ( বাড়ি থেকে ) বেরিয়ে নামাজ পড়লে সাহাবাগনও তিনার সহিত নামাজ আদায় করেন। অতঃপর যখন চতুর্থ রাতের আগমন হয় মসজিদে বিগত তিন রাত অপেক্ষা নামাজীর সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। (কিন্তু নাবী পাক আলাহিস  সালাম সেই রাতে নামাজের জন্য বের হলেন না বরং তিনি ) ফজরের নামাজের  জন্য বের হলেন। অতঃপর ফজরের নামাজের শেষে সাহাবিগনের দিকে চেহারা মোবারক করে খুৎবা পাঠ করে ইরশাদ করেন, তোমাদের ( রাতের ) ব্যাপারটা আমার কাছে গোপনীয় ছিল না। কিন্তু আমার ভয় হয়ে ছিল ( যদি এমন ভাবে জামাতের সহিত তারাবীহ্ আদায় করতে থাকি তাহলে ) তা তোমাদের প্রতি ফরজ হয়ে যাবে যা পালন করতে তোমরা শক্ষম হবে না। অতঃপর নাবী পাক আলাহিস  সালাম ইন্তেকাল করেন ও তারাবীহ্ ব্যাপারটা এই ভাবেই থেকে যায়। 
( বোখারী শরীফ প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা নং ২৭৯, হাদীস নং ২০১২, ফাজলো মান কামা রামজান অধ্যায়,, কিতাবো স্বালাতিত তারাবীহ্,, মুসলিম শরীফ হাদীস নং ১৮২০, তারগীব ফি কিয়ামে রামজান ওয়া হুয়া তারাবীহ্ অধ্যায়,,) 
* উপরোক্ত হাদীসদ্বয়-এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রমানিত হয় যে, নাবী পাক আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম নিজেই সাহাবাদের দুই অথবা তিন দিন জামাতের সহিত তারাবীহ্-এর নামাজ পড়িয়েছেন। এবং উপরোক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা যদিও  তারাবীহ্ রাকাত সুস্পষ্ট নয়। কিন্তু বোখারী শরীফের প্রসিদ্ধ ভাষ্যকার হাযরাত হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী রাহতুল্লাহ্ আলাইহ্ উল্লেখিত প্রথম হাদীসের ব্যাখ্যায় ইরশাদ করেন,
انہ ﷺ صلی بالناس عشرین رکعۃ لیلتین فلما کان فی اللیلۃ الثالثۃ اجتمع الناس فلم یخرج الیھم ثم قال من الغد خشیت ان تفرض علیکم فلا تطیقوھا
(تلخیص الخبیر جلد دوم ص۔۲۱)
অর্থাৎ :- নিশ্চয়ই, নাবী পাক আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম উভয় রাতেই বিশ রাকাত  তারাবীহ্ পড়িয়েছেন। অতঃপর যখন তৃতীয় রাত্রির আগোমন হয় এবং সাহাবাগন ( নামাজের জন্য ) একত্রিত হন, নাবী কারীম আলাইহিস স্বালাতু ওয়া তাসলীম ( হুজরা শরীফ ) থেকে বের হন নি। পরের সকালে তিনি ইরশাদ করেন, আমার ভয় হয়ে ছিল উক্ত নামাজ তোমাদের প্রতি ফরজ হয়ে যাবে যা তোমরা ( পরবর্তিতে ) পালন করতে সক্ষম হবে না।   
(তালখীসুল হাবীর ২য় খন্ড পৃষ্ঠা নং ২১ )
ইহাছাড়া আরও কয়েকটি হাদীস আমাদের জ্ঞাত করায় যে, নবী পাক আলাইহিস সালাম বিশ রাকাত তারাবীহ্ পাঠ করতেন। যেমন,
عن ابن عباس رضی اللّٰہ عنھما قال ان النبی ﷺ کان یصلی فی رمضان عشرین رَکَعَۃً سِویٰ الوِتْرِ
(رواہ ابن ابی شیبہ و الطبرانی و البیھقی)
অর্থাৎ :- হাযরাত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্নিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নাবী কারীম আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম রমজান মাসে বিতর ব্যাতীত বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাজ পাঠ করতেন।
( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা শরীফ ২য় খন্ড পৃষ্ঠা নং ১৬৪, হাদীস নং ৭৭৭৪,, বাইহাকী শরীফ {সোনানে কুবরা } ২য় খন্ড পৃষ্ঠা নং ৪৯৮,, তিবরানী শরীফ { মুজামে আওসাত } হাদীস নং ৭৯৮ মিশরী,, মাজফউজ জাওয়াঈদ শরীফ ৩য় খন্ড পৃষ্ঠা নং ১৭২,, তিবরানী কাবীর হাদীস নং ১২১০২,, ) 

লেখক:-মুফতী আমজাদ হুসাইন সিমনানী
প্রিন্সিপাল:-শুকানদিঘী জামিয়া নুরিয়া ও হিফজুল কোরান মাদ্রাসা

নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আামাদেরকে
কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE 
&
HOLY-WAY TEAM
সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।
*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন*
👇👇👇👇👇👇👇👇👇
আমাদের You tube চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন
আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments