হাযরাত উসমান ও হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহুমা এবং তাবেয়ীনে কেরাম 20 রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করতেন।

হাযরাত উসমান ও হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহুমা এবং তাবেয়ীনে কেরাম 20 রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করতেন।
সম্মানিত মুসলিম সমাজ ! যেভাবে হাযরাত উমার রাদীআল্লাহু আনহুর যুগে সমস্ত সাহাবাগন বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করতেন সেভাবেই হাযরাত উসমান, হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহুমা ও তাবেয়ীগনের যুগেও বিশ রাকাতের উপরেই মুসলমানদের আমল ছিল।যা নিম্নে সংকলিত হাদীস সমূহ দ্বারা প্রকাশিত ও প্রমানিত। যেমন, 
عن ابی الحسناء ان علیا رضی اللّٰہ عنہ امر رجلاً یصلی بھم فی رمضان عشرین رکعۃً
(رواہ البیھقی فی السنن الکبری وابن ابی شیبہ فی المصنف باب کم یصلی فی رمضان من رکعۃٍ)
অর্থাৎ :- হাযরাত আবুল হাসানা রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত। নিশ্চয় হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে রমজান শরিফে মুসলমানদেরকে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ পড়ানোর আদেশ দিলেন।
( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং ৭৭৬৩,, বাইহাকী শরীফ সুনানে কুবরা ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ৪৯৭,
 হাদীস নং ৪৩৭৭,, আল মুগনী প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ৪৫৬,,)
عن عبدااللّٰہ بن قیس عن ستیر بن شکل انہ کان یصلی فی رمضان عشرین رکعۃً
(رواہ ابن ابی شیبہ فی المصنف باب کم یصلی فی رمضان من رکعۃٍ)
অর্থাৎ :- হাযরাত আবদুল্লাহ বিন কাঈস রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত। হাযরাত সুতাইর বিন শাকল রমজান মাসে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করতেন।
( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা শরীফ বাব নং ৬৮০ হাদীস নং ৭৭৬২,,)
عن ابی الحسناء ان علی بن ابی طالب امر رجلاً ان یصلی بالناس خمس ترویحات عشرین رکعۃ
(رواہ البيھقی فی السنن الکبریٰ باب ماروی فی عدد رکعات القیام فی شھر رمضان واللفظ لہ وابن ابی شیبہ في المصنف و ابن قدامۃ فی المغنی)
অর্থাৎ :- হাযরাত আবু হাসানা কর্তৃক বর্ণিত। নিশ্চয়ই হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে আদেশ প্রদান করলেন, সে যেন লোকজনদের পাঁচ তারবীহার ( তারবীহা চার রাকায়াতে হয় ) সহিত বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ পড়ান।
( বাইহাকী সুনানুল কুবরা হাদীস নং ৪৩৯৭ ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ৪৯৬,, 
মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ১৬৩,, মুগনী প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ৪৫৬,,)
عن ابی الخصیب قال کان یؤ منا سویدبن غفلہ فی رمضان فیصلی خمس ترویحات عشرین رکعۃً
(رواہ البیھقی فی السنن الکبریٰ باب ماروی فی عدد رکعات القیام وفی سندہ قوۃ)
অর্থাৎ :- হাযরাত আবু খোসাইব রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্নিত। তিনি বলেন, হাযরাত সোআইদ বিন গাফলা রমজান মাসে আমাদের ইমামতী করতেন। এবং তিনি পাঁচ তারবীহার সহিত বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ পড়াতেন।
( বাইহাকী শরীফ সুনানুল কুবরা দ্বিতীয় খন্ড পৃষ্টা নং ৪৯৬, হাদীস নং ৪৩৯৫,,)
عن شتیر بن شکل وکان من اصحاب علی رضی اللّٰہ عنہ انہ کان یؤ مُّھم 
فی شھر رمضان بعشرین رکعۃً و یوتر بثلاث و فی ذٰلک قوۃ 
(رواہ البيھقی فی السنن لکبریٰ باب مااروی فی عدد رکعات القیام  فی شھر رمضان)
অর্থাৎ :- হাযরাত সুতাইর বিন শাকল রাদীআল্লাহু আনহু হতে বর্নিত। তিনি হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহুর সঙ্গিদের মধ্য হতে একজন। নিশ্চয়ই তিনি রমজান শরীফে লোকেদের বিশ রাকাত তারাবীহ্ ও তিন রাকাত বিতর‌ পড়াতেন।
 উক্ত হাদীসের সনদে মজবুতি রয়েছে অর্থাৎ হাদীসটি সহীহ। 
( বাইহাকী সুনানুল কুবরা ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ৪৯৬, হাদীস নং ৪৩৯৫,, )
عن ابی عبدالرحمٰن السلمی عن علی رضی اللّٰہ قال دعاالقراء فی رمضان فامرمنھم رجلایصلی بالناس عشرین رکعۃ
(رواہ البیھقی فی السنن الکبریٰ باب ماروی فی عدد رکعات القیام فی شھر رمضان)
অর্থাৎ :- হাযরাত আবু আব্দুর রাহমান সালামী রাদীআল্লাহু আনহু হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহু প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি একদা রমজান মাসে ক্বারীগনকে ডেকে তাদের মধ্যে একজন ক্বারীকে লোকেদের বিশ রাকাত তারাবীহ্ পড়ানোর আদেশ প্রদান করলেন। 
( সুনানে কুবরা বাইহাকী শরীফ ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ৪৯৬, হাদীস নং ৪৩৯৬,,)
عن علی رضی اللّٰہ عنہ انہ امررجلایصلی بھم فی رمضان عشرین رکعۃ وھذا ایضا سویٰ الوتر
(رواہ ابن عبدالبرفی التمھید)
অর্থাৎ :- হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহু হতে বর্নিত। নিশ্চয়ই তিনি এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন যেন সে মুসলমানদেরকে রমজান শরীফে বিশ রাকাত তারাবীহ্ পড়ান। এবং এটি বিতর ছাড়া ছিল।
( তামহীদ ৪ম খন্ড পৃষ্টা নং ১১৫,,) 
وفی روایۃ ان علیارضی اللّٰہ عنہ کان یؤ مُّھم بعشرین رکعۃ ویوتر بثلاث
(رواہ ابن قدامہ فی المغنی)
অর্থাৎ :- এক বর্ণনায় রয়েছে, নিশ্চই হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহু তাদেরকে বিশ রাকাত তারাবীহ্ ও তিন রাকাত বিতর পড়াতেন।
( আল মুগনী লি ইবনে কুদ্বামা প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ৪৫৬,,) 
عن ابی اسحاق عن الحارث انہ کان یؤم الناس فی رمضان باللیل بعشرین رکعۃ ویوتربثلاث ویقنت قبل الرکوع
(رواہ ابن ابی شیبہ فی المصنف باب کم یصلی فی رمضان من رکعۃٍ)
অর্থাৎ :- হাযরাত আবু ইসহাক রাদীআল্লাহু আনহু হাযরাত হারিস রাদীআল্লাহু আনহু প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই তিনি রমজান মাসের রাতে লোকেদের বিশ রাকাত তারাবীহ্ ও তিন রাকাত বিত্র নামাজ পড়াতেন। আর [ বিতর নামাযে ] রুকু করার পূর্বে দোআয়ে কুনুত পাঠ করতেন।
( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা শরীফ হাদীস নং ৭৭৬৭,,) 
عن ابی البختری انہ کان یصلی خمس ترویحات فی رمضان ویوتر بثلاث
(رواہ ابی شیبہ فی المصنف باب کم یصلی فی رمضان واسنادہ صحیح)
অর্থাৎ :- হাযরাত আবু বুখতারী রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত। নিশ্চয়ই তিনি রমজান মাসে পাঁচ তারবীহার সহিত তারাবীহ্ নামাজ পাঠ করতেন ( এক তারবীহা বলা হয় চার রাকায়াতের পর কিছুক্ষন আরাম করা) এবং তিন রাকায়াত বিতর নামাজ পাঠ করতেন।
( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ১৬ ও হাদীস নং ৭৭৪৮ ) 
عن عطاء قال ادرکت الناس وھم یصلون ثلاثا وعشرین رکعۃ بالوتر
(رواہ ابن ابی شیبہ فی المصنف باب کم یصلی فی رمضان من رکعۃٍ واسنادہ حسن)
অর্থাৎ :- হাযরাত আতা রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্নিত। তিনি বলেন, আমি মুসলমানদের প্রত্যক্ষ করেছি যে তারা ( রমজান মাসে ) 
বিতর সহ তেইশ রাকায়াত নামাজ আদা করতেন।
( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা হাদীস নং ৭৭৭০ ) 
عن سعید بن عبید ان علی بن ربیعۃ کان یصلی بھم فی رمضان خمس ترویحات ویوتربثلاث
(رواہ ابن ابی شیبہ فی المصنف باب کم یصلی فی رمضان من رکعۃٍ واسنادہ صحیح)
অর্থাৎ :- হাযরাত সাঈদ বিন উবাইদ রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্নিত। নিশ্চয়ই হাযরাত আলী বিন রাবীআ রাদীআল্লাহু আনহু তাদেরকে পাঁচ তারবীহার সহিত [ বিশ রাকায়াত ] তারাবীহ্ ও তিন রাকায়াত বিতর নামাজ পড়াতেন।
( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ৭৭৭২ ) 
عن نافع بن عمر کان ابن ابی ملیکۃ یصلی بنا فی رمضان عشرین رکعۃ 
(رواہ ابی شیبۃ فی المصنف)
অর্থাৎ :- হাযরাত নাফে বিন উমার রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্নিত। ( তিনি বলেন ) হাযরাত ইবনে আবী মুলাইকা রমজান শরিফে আমাদেরকে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ পড়াতেন।
( মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২য় খন্ড হাদীস নং ৭৭৬৫ )
قال الشافعی رضی اللّٰہ عنہ وھکذا ادرکت ببلد نابمکۃ یصلون عشرین رکعۃ
(رواہ الترمزی فی االسنن باب ماجاء فی قیام شھر رمضان)
অর্থাৎ :- হাযরাত ইমাম শাফেয়ী রাদীআল্লাহু আনহু বলেন, আমি আমাদের পবিত্র শহর মক্কায় লোকজনকে বিশ রাকায়াত নামাজ আদায় করতে প্রত্যক্ষ করেছি।
( তিরমিজী শারীফ প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ৯৯ ফি কিয়ামে শাহরে রামজান অধ্যায় )
ইমাম তাহতাবী আলাইহির রাহমা বলেন,
ثبت العشرون بمواظبۃ الخلفاء الراشدین ماعدا الصدیق رضی اللّٰہ عنھم
অর্থাৎ :- হাযরাত আবু বাক্কার সিদ্দিক রাদীআল্লাহু আনহু ব্যাতীত ( কারন তিনার যুগে তারাবীহ্ জামাত সহিত চালু হইনি ) 
সমস্ত খোলাফায়ে রাশেদীন-এর চিরাচরিত আমল দ্বারা বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ প্রমাণিত।
( আহ্তাবী আলা মারাকিল ফালাহ্ পৃষ্টা নং ২২৪ )

প্রিয় পাঠক বৃন্দ ! উপরোল্লেখিত হাদীস ও দলীল সমূহের অধ্যায়ন নিশ্চয়ই আপনাকে জ্ঞাত করিয়েছে যে, হাযরাত উমার রাদীআল্লাহু আনহুর ন্যায় হাযরাত আলী, হাযরাত উসমান রাদীআল্লাহু আনহুমা এবং তাবেয়ী ও তাবয়ে তাবেয়ীর পবিত্র যুগেও বিশ রাকায়াত তারাবীহ্কে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আট রাকায়াত না। তাঁদের যুগে বিশ রাকায়াত তারাবীহের কেউ বিরোধিতা করেন নি। এবং তাদের পর আজ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মুহাদ্দেসীন, মুফাস্সেরীন ও উলামায়ে কেরাম বিশ রাকায়াত তারাবীহের উপর আমল করে আসছেন। সুতরাং বর্তমান যুগের সমস্ত মুসলমানদের উচিত সেই কর্মের উপর আমল ও নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা যে কর্মের উপর নাবী পাক আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম- এর প্রিয় সাহাবাগন ও তাবেয়ীন গন আমল করে নিজের নিজের জীবন অতিবাহিত করেছেন।
প্রকাশ থাকে যে, যে ব্যক্তিরা মক্কা ও মদীনা শরীফের দোহাই দিয়ে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে সেই ব্যক্তিদেরকেও বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করা উচিত আট রাকায়াত না। কারন মক্কা ও মদীনা শরীফেও আজ পর্যন্ত বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করা হয় আট রাকায়াত না।

লেখক:-মুফতী আমজাদ হুসাইন সিমনানী
প্রিন্সিপাল:-শুকানদিঘী জামিয়া নুরিয়া ও হিফজুল কোরান মাদ্রাসা

নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আামাদেরকে
কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE 
&
HOLY-WAY TEAM
সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।
*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন*
👇👇👇👇👇👇👇👇👇
আমাদের You tube চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন


আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments