সিহাহে সিত্তা সহ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল তারাবীহের রাকাত সংখ্যা বিশ।

সিহাহে সিত্তা সহ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল তারাবীহের রাকাত সংখ্যা বিশ।
ইতি পূর্বের অধ্যায় সমুহ দ্বারা পরিষ্কার ভাবে প্রমানিত যে, নাবী মুস্তাফা আলাইহিস সালাত ওয়াস সালাম, খোলাফায়ে রাশেদীন রাদীআল্লাহু আনহুম, অন্যান্য সাহাবা কেরাম, তাবেয়ীন এজাম ও তাবয়ে তাবেয়ীন রাদীআল্লাহু আনহুম তারাবীহের নামাজ বিশ রাকায়াত সহকারে আদায় ও কায়েম করেছেন। তাই সিহাহে সিত্তার গ্রন্থাকার গনের মধ্য হতে ইমাম তিরমিজী আলাইহির রাহমা নিজের প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ তিরমিজী শরীফে ইরশাদ করেন। 
اکثر اھل العلم علی ماروی عن عمر و علی رضی  اللّٰہ عنھما وغیر ھما من اصحاب النبی ﷺ عشرین رکعۃ وھوقول الثوری وابن المبارک و الشافعی وَقاَلَ الشّافِعِیْ وَھٰکَذَا اَدْرَکْتُ بِبَلَدِ نَا بِمِکَّۃَ یُصَلُّوْنَ عِشْرِ یْنَ رکعۃً
(ترمزی جلد اول ص۔ ۹۹ باب ماجاء  فی قیام شھررمضان)
অর্থাৎ :- সংখ্যাগরিষ্ঠ বিশ্বস্ত ওলামায়ে কেরাম এর (মত ও পথ) রয়েছে তার উপর যা বর্ণিত হয়েছে হাযরাত উমার, হাযরাত আলী ও নাবী পাক আলাইহিস স্বালাত ওয়াস সালাম-এর অন্যান্য সাহাবা কেরাম রাদীআল্লাহু আনহুম হতে অর্থাৎ তারাবীহ্ নামাজ হল, বিশ রাকায়াত । এটাই মত প্রকাশ করেছেন হাযরাত সুফিয়ান সাওরী, হাযরাত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুবারাক ও ইমাম শাফেয়ীও ( রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহিম )। ইমাম শাফেয়ী বলেন, এভাবেই  আমি আমাদের পবিত্র শহর মক্কা শরীফে মুসলমানদের বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করতে প্রত্যক্ষ করেছি।
( তিরমিজী শরীফ প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ৯৯,, )
* ইমাম মুল্লা আলী কারী রাহমাতুল্লাহ আলাই  নিজ গ্রন্থ) ‘‘র্শাহে নেকায়া” এর মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন,   
فصار اجماعاً لماروی البیھقی رحمۃ اللّٰہ تعلیٰ باسناد صحیح کانوا یقیمون علی عھد عمر بعشرین رکعۃ وعلی عھد عثمان وعلی رضی اللّٰہ عنھم
অর্থাৎ :- বিশ রাকায়াত তারাবীহ্-এর উপর ইজ্মা তথা সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। কারন ইমাম বাইহাকী আলাইহির রাহমা সহীহ্ সনদ দ্বারা বর্ণনা করেছেন যে, হাযরাত উমার, হাযরাত উসমান ও হাযরাত আলী রাদীআল্লাহু আনহুম-এর পবিত্র যুগে তিনারা ( সাহাবা ও তাবেয়ীগন) বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করতেন।
* তাহ্তাবী আলা মারাফিল ফালাহ্ পৃষ্টা নং ২২৪ -এ লিপিবদ্ধ আছে,
ثبت العشرون بمواظبۃ الخلفاء الراشدین ماعدا الصدیق رضی اللّٰہ عنھم
অর্থাৎ :- হাযরাত আবু বাক্কার সিদ্দিক রাদীআল্লাহু আনহু ব্যাতিত (কারন তিনার যুগে জামাত সহকারে তারাবীহ্  চালু হয়নি) সমস্ত খোলাফায়ে রাশেদীন -এর চিরাচারিত আমল দ্বারা বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ প্রমানিত।
* ফাতাওয়া শামী প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ১৯৫ -এ আল্লামা ইবনে আবেদিন শামী রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহে ব্যাক্ত করেন, 
وھی عشرون رکعۃ ھو قول الجمھور وَعَلَیْہِ النَّاسُ شَرْقاَو غَرْباً
অর্থাৎ :- তারাবীহ্ নামাজ হল বিশ রাকায়াত । এটাই হল সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগনের মত ও পথ । যার উপর পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত অবধি সমগ্র পৃথিবীর মুসলমানগন আমল করে আসছেন।
* হাযরাত আল্লামা শাইখ জাইনুদ্দিন ইবনে নাজিম রাহমাতুল্লাহ্ আলাই লিপিবদ্ধ করেন।
ھو قول الجمھور لمافی المؤطا عن یزید بن رومان قال کان الناس یقرمون فی زمن عمر بن الخطاب بثلاث وعشرین رکعۃ  وعلیہ عمل الناس شرقا وغرباً
অর্থাৎ :- সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগনের মত ও পথ হল তারাবীহ্ বিশ রাকায়াত । কারন ”মোআত্তা ইমাম মালিক” এ হাযরাত ইয়াজিদ বিন রুমান রাদীআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্নিত। তিনি বলেন, হাযরাত উমার বিন খাত্তাব রাদীআল্লাহু আনহুর জামানায় মুসলমানরা তেইশ রাকায়াত নামাজ ( তিন রাকায়াত বিতর ও বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ ) আদায় করতেন। আর এটার উপর আমল করে আসছেন গোটা পৃথিবীর মুসলমানগন।
( বাহরুর রাইক দ্বিতীয় খন্ড পৃষ্টা নং ৬৬)
*এনায়া শারহে হেদায়া``গ্রন্থে ফি কিয়ামে রামজান অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে|
کان الناس یصلونھا فرادی الی زمن عمررضی اللّٰہ عنہ فقال عمر انی اری اجمع الناس علی امام واحد فجمعھم علی اُبَیْ ابن کعب فصلی بھم خمس ترویحات عشرین رکعۃً
অর্থাৎ :- হাযরাত উমার রাদীআল্লাহু আনহুর শাসনকালের প্ররম্ভ পর্যন্ত সাহাবা কেরামগন একাকী তারাবীহ্ নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর হাযরাত উমার রাদীআল্লাহু আনহু বলেন, আমার মনে আকাঙ্খা যে, আমি সমস্ত মানুষকে এক ইমামের পিছনে একত্রিত করি। অতএব তিনি তাদেরকে হাযরাত উবাই বিন কাআব-এর পিছনে একত্রিত করলেন। এবং হাযরাত উবাই বিন কাআব স্বীয় মুক্তাদিগনকে পাঁচ তারবীহার সহিত বিশ রাকায়াত  তারাবীহ্ পড়ালেন।
* বাদায়ে সানায়ে গ্রন্থে
اماقدرھا فعشرون رکعۃ فی عشر تسلمات فی خمس ترویحات کل  تسلیمتین ترویحۃ وھذا قول عامۃ العلماء
অর্থাৎ :- তারাবীহের রাকাত সংখ্যা হল বিশ যা পাঁচ তারবীহা সহ দশ সালামে আদায় করা হবে। প্রতি দুই সালামের পর এক তারবীহা গন্য হবে। আর এটাই হল সমস্ত আলিমগনের মত ও পথ।
( বাদায়ে সানায়ে প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ২৮৮ )
* ইমাম আহ্লে সুন্নাত হুজ্জাতুল ইসলাম হাযরাত ইমাম গাজ্জালী রাহমাতুল্লাহ্ আলাই ইরশাদ করেন,
التراویح وھی عشرون رکعۃ کیفیتھا مشھورۃ وھی سنۃ مأ کدۃ
অর্থাৎ :- তারাবীহ্ হল বিশ রাকায়াত যার আদায় করার নিয়ম খুবই পরিচিত আর এই নামাজ হল সুন্নাতে মুআক্কাদা।
( ইহইয়াউল উলুম প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ২৪৩ )  
* গাওসে আজাম হুজুর সাইয়্যেদুনা বড় পীর শাইখ আব্দুল কাদির জীলানী রাদীআল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন,
صلوۃ التراویح سنۃ النبیﷺ وھی عشرون رکعۃ
অর্থাৎ :- তারাবীহের নামাজ হল, নাবী পাক আলইহিস সালামের সুন্নাত এবং এর রাকায়াত সংখ্যা হল বিশ।
( গুনিয়াতুত তালেবীন আরবী পৃষ্টা নং ২৭৮ )
* শারহে ওকায়া গ্রন্থে রয়েছে।
التراویح عشرون رکعۃً
অর্থাৎ :- তারাবীহ্ নামাজ হল বিশ রাকায়াত ।
( শারহে ওকায়া প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ১৭৫ ) 
* কেফায়া নামের গ্রন্থে রয়েছে।
کانت جملتھا عشرون رکعۃ وھذا عندنا وعندا الشافعی
* বাদশাহ আলামগীর-এর যুগে প্রায় পাঁচ শত নির্ভরযগ্য আলিমগনের সিদ্ধান্তে লিপিবদ্ধ ফিকা গ্রন্থ ” ফাতওয়া আলামগিরী” এর মধ্যে আছে।  
و ھی خمس ترویحات کل ترویحۃ اربع رکعۃً تسلیمتین
অর্থাৎ :- পাঁচটি তারবীহা সম্বলীত তারাবীহ্-এর নামাজ। প্রতি তারবীহা চার রাকায়াত সম্বলীত যা দুই সালামের সহিত আদায় করা হবে।
( ফাতাওয়া আলামগিরী প্রখম খন্ড পৃষ্টা নং ১০৮ )
* হাযরাত আল্লামা আশ-শাহ্ ওলীউল্লাহ্ মোহাদ্দিসে দেহেলবী রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহে যাকে ওহাবী আহ্লে হাদীসরাও নিজের ইমাম ও পেশওয়া বলে মানে ও স্বিকার করে। তিনি নিজ প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ”হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা” এর মধ্যে ইরশাদ করেন,
عددہٗ عشرون رکعۃ
অর্থাৎ :- তারাবীহের রাকায়াত সংখ্যা হল বিশ।
( হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা দ্বিতীয় খন্ড পৃষ্টা নং ১৮ )
* হাযরাত আল্লামা ইবনে হাজার হাইসামী রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহে ইরশাদ করেন,
اجماع الصحابۃ علی ان التراویح عشرون رکعۃ
অর্থাৎ :- সাহাবায়ে কেরাম রাদীআল্লাহু আনহুম এর সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত হল, নিশ্চয়ই তারাবীহ্ নামাজ হল বিশ রাকায়াত ।
* হাযরাত আল্লামা আইনী রাহমাতুল্লাহে আলাইহে উমদাতুল কারী শারহে বোখারী-এ ইরশাদ করেন,
قال ابن عبدا لبروھوقول جمھور العلماء وبہ قال الکوفیون والشافعی واکثر الفقھاء وھو الصحیح من غیر خلاف من الصحا بۃ
অর্থাৎ :- ইমাম ইবনে আব্দুল বার ইরশাদ করেন, বিশ রাকায়াত তারাবীহ হল জামহুর উলামা ( সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামা ) এর মত। আর এটাই মত প্রকাশ করেছেন কুফার আলীমগন, ইমাম শাফেয়ী ও সংখ্যা গরিষ্ঠ ফিকা শাস্ত্রের বিশ্বস্ত আলীমগন আর এটাই সঠিক যা বর্ণিত হয়েছে হাযরাত কাআব রাদীআল্লাহু আনহু হতে সাহাবা কেরামগনের বিনা মতভেদে।
( উমদাতুল কারী শারহে বোখারী ৫ম খন্ড পৃষ্টা নং ৩৫৫ )  

প্রিয় পাঠক বৃন্দ! উপরোল্লেখিত উদ্ধৃতীগুলী দ্বারা পরিস্কার ভাবে প্রমাণিত যে, সিহাহে সিত্তা, অন্যন্য সমস্ত বিশস্ত উলামায়ে কেরাম ও মোহাদ্দেসীনে এজাম, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনে এজাম বিশেষতঃ খোলাফায়ে রাশেদীন রাদীআল্লাহু আনহুম-এর সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত হল তারাবীহ্ রাকায়াত সংখ্যা বিশ। বিশ রাকায়াত তারাবীহের মধ্যে সাহাবা কেরাম ( রাদীআল্লাহু আনহুম ) গণের কোন মতভেদ নেই। সুতরাং বিশ রাকায়াত তারাবীহ্কে অস্বিকার করে আট রাকাত প্রমান করে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনে এজাম-এর বিরধিতা করা এবং নিজের অজ্ঞতা ও মূর্খামী প্রকাশ করা ব্যাতিত আর কিছু না। 
আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সকল কে সেই পথ ও  মতে পরিচালিত করুক যে পথ আমাদেরকে নাবী কারীম আলাইহিস সালাম-এর প্রিয় সাহাবাগন প্রদান করেছেন। কারন সাহাবায়ে কেরাম গণের বিরোধিতা করে কেউ জান্নাতী দলে প্রবেশ করতে পারেনা।

লেখক:-মুফতী আমজাদ হুসাইন সিমনানী
প্রিন্সিপাল:-শুকানদিঘী জামিয়া নুরিয়া ও হিফজুল কোরান মাদ্রাসা

নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আামাদেরকে
কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE 
&
HOLY-WAY TEAM
সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।
*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন*
👇👇👇👇👇👇👇👇👇
আমাদের You tube চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন
আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments