চার প্রসিদ্ধ ইমামগণেরই মতানুযায়ী তারাবীহ বিশ রাকাত।

চার প্রসিদ্ধ ইমামগণেরই মতানুযায়ী 
তারাবীহ বিশ রাকাত।
সাওয়াদে আজম আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ফিকাহ্ শাস্ত্রের চারজন প্রসিদ্ধ ও বিখ্যাত ইমামগন যাদের অনুসরন করে প্রায় ১২০০, বছরেরও অধিক সময় ধরে গোটা মুসলিম উম্মাহ নিজের ইসলামী জীবন অতিবাহিত করে আসছেন। অর্থাৎ ইমাম আজম হাযরাত আবু হানিফা, হাযরাত ইমাম শাফেয়ী, হাযরাত ইমাম মালিক ও হাযরাত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাদীআল্লাহু আনহুম যাদেরকে সর্ব সম্মতি ক্রমে গোটা মুসলিম উম্মাহ নিজেদের ইমাম ও পেশওয়া বলে মান্য করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার  মধ্যে কোনো একজন ইমামের মাযহাবের অনুসরন করা প্রতিটি মুসলিম-এর জন্য ওয়াজিব।
উক্ত চারজন যুগশ্রেষ্ট ও প্রসিদ্ধ ইমামগনের নিকটও তারাবীহের নামাজ বিশ রাকায়াত আট রাকায়াত না। শুধু ইমাম মালিক রাদীআল্লাহু আনহুর এ প্রসঙ্গে দুই রকম মন্তব্য বর্নিত হয়েছে। এক মন্তব্যে বিশ রাকায়াত ও দ্বিতীয় মন্তব্যে ৩৬ রাকায়াত । আর ৩৬ রাকায়াত তারাবীহ্ বলার কারন হল, মক্কা শরীফের লোকজন প্রতি দুই তারবীহার মাঝে সাতবার কাবা শরিফের তোয়াফ করতেন, যা মদিনা বাসি করতে শক্ষম হতেন না। তাই সমান করার লক্ষে তারা প্রতি তোয়াফের বদলে চার রাকাত নামাজ বৃদ্ধি করতেন। যেমন হাযরাত ইমাম ইবনে কুদামা মুকাদ্দাসী রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহ্ ইরশাদ করেন,
انما فعل ھذا اھل المدیینۃ لانھم ارادوامساواۃ اھل مکۃ فان اھل مکۃ یطوفون سبعاً بین کل ترویحتین فجعل اھل المدینۃ مکان کل سبع اربع رکعات
(المغنی جلد دوم ص۔۷۶۱)
অর্থাৎ :- মদিনাবাসীগন এটা এজন্য করতেন যাহাতে মক্কা বাসীদের সমান হয়ে যায়। কারন, মক্কাবাসীগন প্রতি দুই তারবীহার মাঝে সাতবার বাইতুল্লাহ্ শরিফের তোয়াফ করতেন। সুতরাং মদিনাবাসীগন প্রতি সাত তোয়াফের বদলে চার রাকায়াত নামাজ বৃদ্ধি করে নিতেন।
(মুগনী ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ১৬৭ ) 

অতঃপর ইমাম ইবনে কুদামা রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহ্ বলেন, কিন্তু যেহেতু সাহাবা কেরাম রাদীআল্লাহু আনহুম-এর দ্বারা ২০ রাকায়াত তারাবীহ্ প্রমানিত ও বাস্তবায়িত তাই আমাদেরকে তাদেরই অনুসরন করে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করা উচিত। কারন নাবী পাক আলইহিস সালাত ওয়াস সালাম-এর সাহাবীগণের অনুসরন করাটাই হল আমাদের জন্য সবথেকে উত্তম।
(মুগনী ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ১৬৭ )
( ১ )  চার ইমামের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়, প্রসিদ্ধ এবং ইলম ও হিকমাতের অগাধ পন্ডিত্যের অধিকারী ইমামে আজাম হাযরাত আবু হানীফা রাহমাতুল্লাহে আলাইহ্ এর মত ও মাজহাবেও তারাবীহ্ বিশ রাকায়াত । যেমন, ইমাম ফাখরুদ্দিন রাহমাতুল্লাহে আলাইহ্ ”ফাতাওয়া কাজীখাঁ” এর মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন, 
عن ابی حنیفۃ رضی اللّٰہ عنہ قال القیام فی شھر رمضان سنۃ    کل لیلۃ سویٰ الوتر عشرین رکعۃ خمس ترویحات
(فتاویٰ قاضی خان جلد اول ص۔١١٢)
অর্থাৎ :- ইমাম আজম আবু হানীফা রাদীআল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন, রামজান মাসে কিয়াম ( তারাবীহ ) করা হল সুন্নাত। ( তারাবীহের পদ্ধতী ) প্রতি রাত্রে বিতর ব্যাতিত বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ পাঁচ তারবীহার সহিত আদায় করতে হবে।
( ফাতাওয়া কাজীখাঁ প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা নং ১১২ )
( ২ ) মালেকী মাজহাবের প্রবক্তা ও পেশওয়া, রাহবারে আহলে সুন্নাত ইমামে দারিল হিজরাত হাযরাত ইমাম মালিক বিন আনাস রাহমাতুল্লাহে আলাইহ্ এর নিকটও তারাবীহ্ বিশ রাকায়াত । যেমন হাযরাত আল্লামা ইবনে রুশদ মালেকী রাহমাতুল্লাহে আলাইহ্ ইরশাদ করেন, 
واختار مالک (رحمۃ اللّٰہ تعلیٰ) فی احد قولیہ   القیام بعشرین رکعۃً 
(بدایۃ المجتھد جلد اول ص۔۴۱۲)
অর্থাৎ :- ইমাম মালিক রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহ্ তাঁর দুই মতের মধ্যে একটিতে বিশ রাকায়াত তারাবীহ্কে নির্বাচিত করেছেন।
( বেদাইয়াতুল মুজাতাহিদ প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ২১৪ ) 
( ৩ ) শাফেয়ী মাজহাবের ইমাম ও রাহবার ইমামুল হাদীস ও ফিকহ্ হুজুর সাইয়্যেদুনা মোহাম্মাদ বিন ইদরীস শাফেয়ী রাদীআল্লাহু আনহুর নিকটও তারাবীহ্ নামাজ বিশ রাকায়াত । যেমন, ইমাম তিরমিযী রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহ্ এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন,
وقال الشافعی وھکذا ادرکت ببلد نا بمکۃ یصلون عشرین رکعۃً
(ترمزی جلد اول ص۔۹۹ باب ماجاء فی قیام شھر رمضان)
অর্থাৎ :- ইমাম শাফেয়ী  রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহ্ ইরশাদ করেন, এই ভাবেই আমি আমার শহর মক্কা শরিফে মুসলমানদের বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ কায়েম করতে প্রত্যক্ষ করেছি।
( জামেয়ে তিরমিযী প্রথম খন্ড পৃষ্টা ৯৯ ) 
( ৪ ) ইমাম ইবনে কুদামা হাম্বালী রাহমাতুল্লাহ্ আলাইহ্ নিজের হাম্বালী মাজহাবের ইমাম ও মুকতাদা ইমামে আহলে সুন্নাত হুজুর সাইয়্যেদুনা আহমাদ বিন হাম্বাল রাদীআল্লাহু আনহু প্রসঙ্গে ব্যাক্ত করেন,
والمختار عند ابی عبد اللّٰہ فیھا عشرون رکعۃً وبھذا قال الثوری وابو حنیفۃ و الشافعی
(المغنی لاین قدامۃ جلد دوم ص۔٣٦٦)
অর্থাৎ :- ইমাম আবু আব্দুল্লাহ (আহমাদ বিন হাম্বাল) রাদীআল্লাহু আনহুর নিকট বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ আদায় করা হল নির্বাচিত ও পছন্দনীয়। আর এটাই মত প্রকাশ করেছেন হাযরাত ইমাম সুফিয়ান সাওরী, ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম শাফেয়ী রাদীআল্লাহু আনহুম।
( আল মুগনী ২য় খন্ড পৃষ্টা নং ৩৬৬ )
এছাড়া বেদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্থে তারাবীহ্ নামাজের ব্যাপারে প্রখ্যাত ও বিশুদ্ধ চার ইমামগনের মত ও পথ প্রসঙ্গে পরিস্কার ভাসায় লিপিবদ্ধ আছে।
فا ختار مالک فی احد قولیہ وابو حنیفۃ والشافعی واحمد و داؤد القیام بعشرین رکعۃ سویٰ الوتر
(بدایۃ المجتھد جلد اول ص۔٢١٠
باب فی قیام رمضان)
অর্থাৎ :- ইমাম মালিক তাঁর এক মন্তব্যে এবং ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল ও ইমাম দাউদ রাদীআল্লাহু আনহুম বিতর ছাড়া বিশ  রাকাতের সহিত তারাবীহ্ আদায় করাকেই নির্ধারন ও পছন্দ করেছেন।
( বেদায়াতুল মুজতাহিদ প্রথম খন্ড পৃষ্টা নং ২১০ )
লেখক:-মুফতী আমজাদ হুসাইন সিমনানী
প্রিন্সিপাল:-শুকানদিঘী জামিয়া নুরিয়া ও হিফজুল কোরান মাদ্রাসা

নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে
কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE 
&
HOLY-WAY TEAM
সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।
*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন*
👇👇👇👇👇👇👇👇👇
আমাদের You tube চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন
আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments